Categories
আল-কোরআন আল-হাদীস

কোরআন হাদিসের আলোকে পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

সন্তানের জন্য বা সন্তানের বিরুদ্ধে পিতা-মাতার যেকোনো দোয়া বা বদদোয়া নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে যায়। অতএব, এ ব্যাপারে পিতা-মাতা ও সন্তানদের সর্বদা সাবধান থাকতে হবে। যেন সন্তানের কোনো আচরণে পিতা-মাতার অন্তর থেকে ‘উহ্’ শব্দ বেরিয়ে না আসে। অথবা সন্তানের প্রতি রুষ্ট হয়ে পিতা-মাতা যেন মনে বা মুখে কোন বদদোয়া না করে বসেন। যেকোনো অবস্থায় উভয়কে ধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং সর্বদা উভয়ে উভয়ের প্রতি সহমর্মী ও সহানুভূতিশীল থাকতে হবে।

রক্তের সম্পর্ক ছিন্নকারীর সঙ্গে সদ্ব্যবহারকারী ব্যক্তি আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্ত:

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত একবার জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার এমন কিছু আত্মীয়-স্বজন আছে, যারা আমার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। কিন্তু আমি তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করি এবং তাদের দুর্ব্যবহারে ধৈর্য্য ধারণ করি। উত্তরে তিনি বললেন, তুমি যা বলছ, সেরূপ হলে তুমি তাদের মুখের ওপর গরম ছাই নিক্ষেপ করছ। যতক্ষণ তুমি এই নীতির ওপর থাকবে, ততক্ষণ আল্লাহর পক্ষ হতে তোমার সঙ্গে একজন সাহায্যকারী থাকবেন। যিনি তাদের ক্ষতি হতে তোমাকে রক্ষা করবেন।’ (মুসলিম হ/২৫৫৮; মিশকাত হা/৪৯২৪)। 
অকৃতজ্ঞতার পরিণাম হলো আগুনের শাস্তি। ‘মুখে গরম ছাই নিক্ষেপ করছ’ বলার মাধ্যমে তাদের জন্য জাহান্নামের শাস্তির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

আব্দুল্লাহ বিন আমর (রা.) হতে অন্য বর্ণনায় এসেছে রাসূল (সা.) বলেন, ওই ব্যক্তি আত্মীয়তা রক্ষাকারী নয়, যে কেবল আত্মীয়তার বিপরীতে আত্মীয়তা করে। বরং সেই ব্যক্তি আত্মীয়তা রক্ষাকারী, যে ব্যক্তি ছিন্ন হবার পরে তা পুনঃস্থাপন করে।’ (বুখারি হা/৫৯৯১; মিশকাত হা/৪৯২৩)। কেননা সেটাই হবে প্রকৃত আত্মীয়তা। বাকীটা হবে স্রেফ লৌকিকতা। আত্মীয়তা সর্বদা আত্মার সঙ্গে সম্পর্কিত। যেখানে আত্মার সংযোগ নেই, সেখানে আল্লাহর রহমত নেই। আর আত্মীয়তার মূলে হলেন পিতা-মাতা। তাই তাদের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় রাখাই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্কে ত্রুটি থাকলে বাকী সব সম্পর্কই ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যাবে।

আত্মীয়তায় জীবিকা ও আয়ু বৃদ্ধি পায়:

আনাস (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি নিজের জীবিকায় প্রশস্ততা ও আয়ু বৃদ্ধি কামনা করে, সে যেন তার আত্মীয়দের সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করে।’(বুখারি হা/৫৯৮৬; মুসলিম হা/২৫৫৭; মিশকাত হা/৪৯১৮)। সালমান ফারেসী (রা.) এর বর্ণনায় এসেছে, لاَ يَرُدُّ الْقَضَاءَ إِلاَّ الدُّعَاءُ وَلاَ يَزِيدُ فِى الْعُمُرِ إِلاَّ الْبِرُّ ‘তাকদীর পরিবর্তন হয় না দোয়া ব্যতীত এবং বয়স বৃদ্ধি হয় না সৎকর্ম ব্যতীত।’(তিরমিযী হা/২১৩৯; মিশকাত হা/২২৩৩; সহিহাহ হা/১৫৪)। অর্থাৎ যে সব বিষয় আল্লাহ দোয়া ব্যতীত পরিবর্তন করেন না, সেগুললো দোয়ার ফলে পরিবর্তিত হয়। আর ‘সৎকর্মে বয়স বৃদ্ধি পায়’ অর্থ ওই ব্যক্তির আয়ুতে বরকত বৃদ্ধি পায়। যাতে নির্ধারিত আয়ু সীমার মধ্যে সে বেশি বেশি সৎকাজ করার তাওফিক লাভ করে এবং তা তার আখেরাতে সুফল বয়ে আনে (মিরক্বাত, মিরআত)। কেননা মানুষের রূযী ও আয়ু আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত। যাতে কোনো কমবেশি হয় না। (ক্বামার ৫৪/৫২-৫৩; আরাফ ৭/৩৪; বুখারি হা/৬৫৯৪; মুসলিম হা/২৬৪৩; মিশকাত হা/৮২ ‘তাকদীরে বিশ্বাস’ অনুচ্ছেদ)। আর এটা বাস্তব সত্য যে, পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতার মাধ্যমে মানুষ খুব সহজে সৎকর্ম করার সুযোগ পায়। তাছাড়া পরস্পরের মর্যাদা রক্ষায় ও বিপদাপদ হতে নিরাপদ থাকায় তারা একে অপরের সহযোগী হয়।

পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তানের কোনো সৎকর্ম কবুল হয় না:

আবু উমামাহ (রা.) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ثَلاَثَةٌ لاَ يُقْبَلُ مِنْهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ: عَاقٌّ وَمَنَّانٌ وَمُكَذِّبٌ بِقَدْرٍ- ‘তিনজন ব্যক্তির কোনো দান বা সৎকর্ম আল্লাহ কবুল করেন না : পিতা-মাতার অবাধ্য সন্তান, খোটা দানকারী এবং তাকদীরে অবিশ্বাসী ব্যক্তি।’ (ত্বাবারাণী কাবীর হা/৭৫৪৭; সহিহাহ হা/১৭৮৫)।

পিতা-মাতার মৃত্যুর পর সন্তানের কর্তব্য:

প্রথম করণীয় হলো, তাদের ঋণ পরিশোধ করা ও অসিয়ত পূর্ণ করা। অতঃপর মীরাস বণ্টন করা (সূরা: নিসা ৪/১১)। অতঃপর পিতা-মাতার জন্য দোয়া করা, সদকা করা এবং ইল্ম বিতরণ করা। আরেকটি হলো তাদের পক্ষ হতে হজ করা। (ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৩১০; তালখীছ ৭৬)। … তবে এজন্য উত্তরাধিকারীকে প্রথমে নিজের ফরজ হজ আদায় করতে হবে। (আবুদউদ হা/১৮১১; ইবনু মাজাহ হা/২৯০৩; মিশকাত হা/২৫২৯ ‘মানাসিক’ অধ্যায়-১০)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ জান্নাতে সৎকর্মশীল বান্দার মর্যাদার স্তর উঁচু করবেন। তখন সে বলবে, হে আমার প্রতিপালক! কিভাবে এটা আমার জন্য হলো? তিনি বলবেন, بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ ‘তোমার জন্য তোমার সন্তানের ক্ষমা প্রার্থনার কারণে।’ (আহমাদ হা/১০৬১৮; ইবনু মাজাহ হা/৩৬৬০; মিশকাত হা/২৩৫৪ ‘ইস্তিগফার ও তওবা’ অনুচ্ছেদ; সহিহাহ হা/১৫৯৮)। এজন্য সন্তানকে সর্বদা দোয়া করতে হবে,رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِيْ صَغِيْراً-  (রবিবরহাম্হুমা কামা রববাইয়া-নী সগীরা) ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি তাদের প্রতি দয়া কর যেমন তারা আমাকে শৈশবে দয়াপরবশে লালন-পালন করেছিলেন’ (সূরা: ইসরা ১৭/২৪)।

رَبَّنَا اغْفِرْ لِي وَلِوَالِدَيَّ وَلِلْمُؤْمِنِينَ يَوْمَ يَقُومُ الْحِسَابُ- (রববানাগফিরলী ওয়ালিওয়া-লিদাইয়া ওয়া লিলমুমিনীনা ইয়াউমা ইয়াক্বূমুল হিসা-ব) ‘হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং ঈমানদার সবাইকে ক্ষমা কর যেদিন হিসাব দণ্ডায়মান হবে’ (সূরা: ইব্রাহিম ১৪/৪১)।

সদকার মধ্যে ওই সদকা উত্তম, যা সদকায়ে জারিয়াহ, যা সর্বদা জারি থাকে ও স্থায়ী নেকী দান করে। এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো ইলম বিতরণ করা। যে ইলম মানুষকে নির্ভেজাল তাওহিদ ও সহিহ সুন্নাহর পথ দেখায় এবং শিরক ও বিদাত হতে বিরত রাখে। উক্ত উদ্দেশ্যে উচ্চতর ইসলামি গবেষণা খাতে সহযোগিতা প্রদান করা, সেজন্য প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও পরিচালনা করা। বিশুদ্ধ আকিদা ও আমল সম্পন্ন বই ছাপানো ও বিতরণ করা এবং এজন্য স্থায়ী প্রচার মাধ্যম স্থাপন ও পরিচালনা করা ইত্যাদি।

অতঃপর মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতিমখানা, ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ ও পরিচালনা, রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ, অনাবাদী জমিকে আবাদ করা, সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা, দাতব্য চিকিৎসালয় ও হাসপাতাল স্থাপন ও পরিচালনা করা ইত্যাদি।

জানা আবশ্যক যে, সদকায়ে জারিয়াহ দু’ভাবে হতে পারে। (১) মৃত ব্যক্তি স্বীয় জীবদ্দশায় এটা করে যাবেন। এটি নিঃসন্দেহে সর্বোত্তম। কারণ মানুষ সেটাই পায়, যার জন্য সে চেষ্টা করে (সূরা: নাজম ৫৩/৩৯)। (২) মৃত্যুর পরে তার জন্য তার উত্তরাধিকারীরা বা অন্যেরা যেটা করেন। সাইয়িদ রশিদ রিযা বলেন, দোয়া, সদকা (ও হজ) এর নেকী মৃত ব্যক্তি পাবেন, এ বিষয়ে বিদ্বানরা সবাই একমত। কেননা উক্ত বিষয়ে শরীয়াতে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। (মির‘আত ৫/৪৫৩)।

আরেকটি বিষয় মনে রাখা আবশ্যক যে, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে সদকায়ে জারিয়াহর ধরন পরিবর্তন হয়ে থাকে। অতএব, যেখানে বা যাকে এটা দেয়া হবে, তার গুরুত্ব ও স্থায়ী কল্যাণ বুঝে এটা দিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে সদা সতর্ক থাকতে হবে, যেন উক্ত সদকা ধর্মের নামে কোনো শিরক ও বিদাতের পুষ্টি সাধনে ব্যয়িত না হয়। যা স্থায়ী নেকীর বদলে স্থায়ী গোনাহের কারণ হবে। কেয়ামতের দিন বান্দাকে তার আয় ও ব্যয় দু’টিরই হিসাব দিতে হবে।  (তিরমিযী হা/২৪১৬; মিশকাত হা/৫১৯৭ ‘হৃদয় গলানো’ অধ্যায়-২৬, পরিচ্ছেদ-২; ছসহিহাহ হা/৯৪৬)। অতএব, সদকা দানকারীরা সাবধান!

পিতা-মাতা না থাকলে খালা-ফুফুর সঙ্গে সদ্ব্যবহার:

আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রা.) বলেন, জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি বড় পাপ করেছি। আমার কি কোনো তওবা আছে? রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, তোমার কি পিতা-মাতা আছে? সে বলল, না। তিনি বললেন, তোমার কি খালা আছে? সে বলল, আছে। তিনি বললেন, তাহলে তার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর।’ (তিরমিযী হা/১৯০৪; মিশকাত হা/৪৯৩৫)। বারা বিন আযেব (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল (সা.) বলেন,الْخَالَةُ بِمَنْزِلَةِ الأُمِّ  ‘খালা হলেন মায়ের স্থলাভিষিক্ত’। (বুখারি হা/২৬৯৯; মিশকাত হা/৩৩৭৭ ‘বিবাহ’ অধ্যায়)। একইভাবে চাচা ও মামু সমান মর্যাদার অধিকারী। রাসূলুল্লাহ (সা.) স্বীয় চাচা আবু তালিবের নিকটে লালিত-পালিত হয়েছিলেন এবং হিজরতের পর মদিনায় স্বীয় দাদার মাতুল গোষ্ঠী বনু নাজ্জারে আশ্রয় গ্রহণ করেছিলেন।  (সীরাতুর রাসূল (সা.) ৩য় মুদ্রণ ৬৮-৬৯ ও ২৩৯ পৃ.)।

অত্র হাদিসে ‘বড় পাপ’ বলতে ব্যক্তির নিকটে বড় পাপ হিসেবে গণ্য হয়েছিল। যদিও সেটি ছোট পাপ ছিল। অথবা সেটি আসলেই বড় পাপ ছিল। কিন্তু সে খালেস তওবা করেছিল। আর খালেস তওবাকারী ব্যক্তির পাপ আল্লাহপাক ক্ষমা করেন ও তা পুণ্যে পরিবর্তন করে দেন (সূরা: ফুরক্বান ২৫/৭০)। জানা আবশ্যক যে, সগীরা গোনাহ বারবার করলে তা কবীরা গোনাহে পরিণত হয় এবং কবীরা গোনাহ তওবা করলে মাফ হয়ে যায়। আর তওবা ব্যতীত কবীরা গোনাহের কোনো ক্ষমা হয় না (সূরা: নাজম ৫৩/৩২; সূরা: তাহরীম ৬৬/৮)।

খালা মায়ের দিক দিয়ে এবং ফুফু পিতার দিক দিয়ে সন্তানের সর্বাধিক নিকটবর্তী। রাসূলুল্লাহ (সা.) পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের পরেই বলেছেন, ثُمَّ أَدْنَاكَ أَدْنَاكَ ‘অতঃপর যে তোমার সর্বাধিক নিকটবর্তী তার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর’ (বু: মু: মিশকাত হা/৪৯১১)। রাসূলুল্লাহ (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠে যেদিন কুরায়েশদেরকে তাওহীদের আহ্বান জানান, সেদিন নিজ কন্যা ফাতেমার পরেই يَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُولِ اللهِ ‘হে আল্লাহর রাসূলের ফুফু সাফিয়া’ বলে তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচার আহ্বান জানিয়েছিলেন। (বুখারি হা/২৭৫৩; মুসলিম হা/২০৬; মিশকাত হা/৫৩৭৩)। এতে বুঝা যায় যে, খালা ও ফুফু একই মর্যাদার অধিকারী।

পিতার বন্ধুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা:

আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রা.) বলেন,إِنَّ مِنْ أَبَرِّ الْبِرِّ صِلَةَ الرَّجُلِ أَهْلَ وُدِّ أَبِيهِ بَعْدَ أَنْ يُوَلِّىَ- ‘সবচেয়ে বড় সদ্ব্যবহার হলো পিতার অবর্তমানে তার বন্ধুদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা।’ (মুসলিম হা/২৫৫২ (১৩); মিশকাত হা/৪৯১৭)। এতে বুঝা যায় যে, পিতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারকারী সন্তান পিতার বন্ধুর কাছেও সদ্ব্যবহার পেয়ে থাকে। আর পিতার বন্ধুও তাকে নিজ সন্তানের মতো স্নেহ করে থাকেন। এভাবেই সে সমাজে সম্মানিত হয়।

পিতা হলেন পরিবারের আমির:

ইসলামি সমাজ হলো নেতৃত্ব ও আনুগত্যের সমাজ। যা আল্লাহর বিধান দ্বারা পরিচালিত হয়। পাঁচ ওয়াক্ত জামাতে ইমামের আনুগত্যের মাধ্যমে যার দৈনন্দিন প্রশিক্ষণ হয়ে থাকে। এর দ্বারা মুসলমানদের জামাতবদ্ধ জীবনের গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে। পরিবার হলো সমাজের প্রাথমিক সংস্থা। যা পিতা-মাতা ও সন্তানাদি নিয়ে গঠিত। এই সংস্থা বা সংগঠন পরিচালিত হয় মূলত: পিতার মাধ্যমে। আল্লাহ বলেন, الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ ‘পুরুষেরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল’ (সূরা: নিসা ৪/৩৪)। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ ‘পুরুষ হলো তার পরিবারের দায়িত্বশীল।’ (বুখারি হা/৭১৩৮; মুসলিম হা/১৮২৯; মিশকাত হা/৩৬৮৫)।

অতএব, পিতা হলেন তার পরিবারের আমির। তার প্রতি আনুগত্য ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য। শিরক বা শরীয়াত বিরোধী আদেশ ব্যতীত অন্য সব ব্যাপারে পিতা-মাতার সাঙ্গে সদ্ব্যবহার ও সদাচরণ করতে হবে। তার আদেশই সর্বদা শিরোধার্য হবে এবং পিতা-মাতার অবাধ্যতা আল্লাহর ক্রোধের কারণ হবে।

পিতা হবেন পরিবার প্রধান এবং মা হবেন গৃহকত্রী। প্রয়োজন মতো পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের পরামর্শ নিয়ে তারা পরিবার পরিচালনা করবেন। কেননা আল্লাহ বলেন,وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللهِ জরুরি বিষয়ে তুমি তাদের সঙ্গে পরামর্শ কর। অতঃপর যখন সংকল্পবদ্ধ হবে, তখন আল্লাহর ওপর ভরসা কর।’ (সূরা: আলে ইমরান ৩/১৫৯)।

উপসংহার:

পরিবার হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রাথমিক ইউনিট। পরিবার যত আনুগত্যশীল ও পরস্পরে শ্রদ্ধাশীল হবে, সমাজ ও রাষ্ট্র তত সুন্দর ও শান্তিময় হবে। পরিবার যত উদ্ধত ও উচ্ছৃংখল হবে, সমাজ তত বিশৃংখল ও বিনষ্ট হবে। অতএব, পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারের প্রাথমিক পারিবারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল সুন্দর সমাজ গঠনে সর্বদা সচেষ্ট থাকতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে পিতা-মাতাকেও আল্লাহভীরু এবং সন্তানের শ্রদ্ধা পাওয়ার যোগ্য হতে হবে। 

রাব্বুল আলামিন আল্লাহ তায়ালা পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো আমাদেরকে যথাযত ভাবে পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *