Categories
আল-হাদীস

৭টি আমল সদকায়ে জারিয়া

প্রত্যেক প্রাণিকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। তবে বিশ্বাসী বান্দাদের কাছে এই জগৎই শেষ নয়, তাকে পরকালে অনন্ত অসীম কাল যাপন করতে হবে। পরকালের জীবনের পুঁজি এই ইহজগত থেকেই সংগ্রহ করে যেতে হয়। দুনিয়াতে এমন কিছু আমল আছে যার সওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকে। হাদিসে রাসুল (সা.) এমন সাতটি আমলের কথা উল্লেখ করেছেন। এসব আমলকে সদকায়ে জারিয়া বলা হয়। 

হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি কাউকে দ্বীনের কোনো ইলম শেখালে এর যে সওয়াব মৃত্যুর পরও তা পেতে থাকবে। যেমন কেউ বাচ্চাদেরকে আল্লাহ আল্লাহ বলা শেখালো। ওই ব্যক্তি মারা যাক অথবা জীবিত থাকুক সর্বাবস্থায় যতবার ওই বাচ্চা আল্লাহ আল্লাহ পড়বে ততবার যিনি শিখিয়েছেন তার সওয়াব মিলবে। এটা হলো সদকায়ে জারিয়া। এজন্য ধর্মীয় শিক্ষকের দরজা অনেক উপরে। কারণ তারা অনেক বড় আমল সদকায়ে জারিয়ে রেখে যান। ছাত্ররা যতদিন ইলম শেখাবেন এর সওয়াবও তারা পাবেন। এভাবে ধারাবাহিকতা চলতেই থাকবে। এক্ষেত্রে মা-বাবাও সওয়াব পাবেন। কারণ তারা শিক্ষকের কাছ পর্যন্ত পৌঁছে না দিলে তো শিক্ষক পড়াতে পারতেন না। এজন্য দ্বীনি শিক্ষার উসিলায় মা-বাবাও সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব পেতে থাকেন।

তেমনিভাবে কেউ কুপ বানালো, পানি পৌঁছানোর জন্য নদী অথবা খাল খনন করলো, অথবা কেউ গাছ রোপন করলো এসবের দ্বারা যত মানুষ ফায়দা লাভ করবে কেয়ামত পর্যন্ত এই সদকার সওয়াব পাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। অথবা কেউ মসজিদ নির্মাণ করলো, সেই মসজিদে যত লোক নামাজ আদায় করবে সবার সওয়াবের একটি অংশ পাবে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। এছাড়া মসজিদ নির্মাণের ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে আছে, যে দুনিয়াতে মসজিদ বানাবে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে তার জন্য বাড়ি নির্মাণ করবেন।

কেউ তার উত্তরসূরিদের জন্য কোরআনে কারিমের কোনো কপি রেখে গেল; পরবর্তীরা এটা পাঠ করলো; এটাও সদকায়ে জারিয়া। অথবা কেউ নেক সন্তান রেখে গেল, মৃত্যুর পর তার জন্য দোয়া করবে। এসব কাজের সওয়াব মৃত্যুর পরও মানুষ কবরে থেকে উপভোগ করতে থাকে। যেদিন মানুষের আর কোনো অবলম্বন থাকবে না সেদিন সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব যে মানুষের জন্য কতটা জরুরি তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এজন্য সবার উচিত বেশি বেশি সদকায়ে জারিয়ার আমলগুলো করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *